"গায়ে হলুদের ড্রেসটা স্লিভলেস করে ফেলেছি রুবাইয়া, তোর মাপ দর্জিকে দিয়ে দিয়েছি — এখন আর না বলিস না।" ফোনটা কাঁধ আর কানের ফাঁকে চেপে রুবাইয়া অন্য হাতে রিকশার হুডটা টেনে তুলল।
বৃষ্টি তখন হুডের ওপর টিনের মতো বাজছে। এলিফ্যান্ট রোডের জ্যামে রিকশা দাঁড়িয়ে, সামনের প্লাস্টিকের পর্দা বেয়ে পানি এসে ওর ব্যাগের কোণা ভিজিয়ে দিচ্ছে, স্যান্ডেলের ভেতর কাদা। ক্যালেন্ডারে দাগ দেওয়া তারিখটা এগারো দিন দূরে। খালাতো বোনের গায়ে হলুদ।
হুডের নিচে বসে ও মাথায় পুরো দিনটা সাজাচ্ছিল — হলুদের স্টেজ, ফটোগ্রাফারের ফ্ল্যাশ, মিষ্টি খাওয়াতে গিয়ে হাত ওপরে তোলা, আর সেই স্লিভলেস ব্লাউজের আর্মহোল। রেজরের পর আন্ডারআর্মের skin-এ যে অসমান texture আর pigmentation থেকে যায়, ছবিতে সেটা ঠিক ওই হাত তোলার মুহূর্তেই ধরা পড়ে। রিকশা নড়ল না। ও ফোনে একটা লিস্ট খুলল।
সেদিন রাতেই ওর অর্ডারে যোগ হলো LAIKOU Japan Sakura Underarm Whitening Cream 30gm। ছোট্ট ৩০ গ্রামের কৌটা, ড্রেসিং টেবিলের চিরুনি আর কাজলের পাশে এক কোণেই বসে যায় — ব্যাগেও নিয়ে ঘোরা যায়।
গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে ভালো করে মুছে নিয়ে ও কৌটার ঢাকনা খুলত — ছোট্ট একটা "ক্লিক"। মটরদানার সমান ক্রিম আঙুলের ডগায়, প্রথম ছোঁয়ায় ঠান্ডা, ভারী নয় একটুও। সাকুরার নরম মিষ্টি গন্ধটা বাথরুমের ভাপের সাথে মিশে যেত। গোল করে মালিশ করার দুই-তিন মিনিটের মধ্যেই বসে যায়, আঠালো ভাব রাখে না — সুতির কামিজের হাতা গায়ে গলাতে গিয়ে কোথাও আটকায় না।
এগারো দিন পর হলুদ শাড়ি, কাঁচা ফুলের গয়না, আর ফটোগ্রাফারের "হাত একটু ওপরে তুলুন আপু"। রুবাইয়া তুলল। ব্যাগের ভেতর সেই কৌটাটা তখনো ছিল, পরের রাতের জন্য।
আপনার ক্যালেন্ডারেও যদি একটা তারিখ দাগ দেওয়া থাকে, আজ রাতেই শুরু করুন।
আপনার মতামত অন্য ক্রেতাদের সাহায্য করবে